তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনের ৩টি পর্যায়ে কমপক্ষে ১৬টি ধাপে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মোকাবেলায় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে
ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন , সাপ্লাই চেইনের কার্যাদেশ, উৎপাদন ও সরবরাহ- এ তিনটি পর্যায়েই দুর্নীতি বিদ্যমান।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ খাতে ৬০ শতাংশ অগ্রগতি হলেও তা বাড়াতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কিছু পদক্ষেপ নিলে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি আরও বাড়বে।”
৬০ শতাংশ অগ্রগতির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০১৩ সালে এক গবেষণায় এ খাতের ৬৩টি বিষয়ে সুশাসনের ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছিল—ওইসব বিষয়ে সরকার, মালিক ও ক্রেতাদের নেয়া ১০২টি উদ্যোগের ফলে সার্বিক এ অগ্রগতি হয়েছে।
গবেষণায় ‘গুণগত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ব্যবহার করায় পরিসংখ্যানগত কোনো অনিয়মের তথ্য দেয়া যাচ্ছে না বলেওজানান তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনিয়মের সঙ্গে কমবেশি সবাই জড়িত। এককভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করা ঠিক হবে না। বায়ার, এজেন্ট, যারা এ খাতে সংশ্লিষ্ট, তাদের দায় এড়ানো যাবে না।
টিআইবির প্রতিবেদনে যে ১৬টি ধাপে দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার কথা উঠে এসেছে, সেগুলো হলো- ব্র্যান্ড/আমদানিকারকের সঙ্গে স্থানীয় এজেন্ট/বায়িং হাউজের যোগাযোগ, কমপ্লায়েন্ট কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ, কার্যাদেশ প্রদান, মূল্য নির্ধারণ/ দর কষাকষি, স্যাম্পল করার নির্দেশ, মাস্টার এলসি-ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা, উৎপাদনের কাঁচামাল/দ্রব্য ক্রয়/আমদানি, পণ্যের মান ও কমপ্লায়েন্স পরিদর্শন, প্রাক জাহাজীকরণ পর্যায়ের মান পরিদর্শন ও জাহাজীকরণ (এফওবি/সিএ্যান্ডএফ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্যের মান, পরিমাণ ও কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি ধামাচাপা দেয়া হয় ঘুষের মাধ্যমে। অংশীজনের সুশাসন ও জবাবদিহিতাহীন এ ধরনের পরিবেশে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য ‘চাঁদাবাজি’কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পোশাক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ২৭ দফা করণীয় ও সুপারিশ করা হয়েছে টিআইবির এই প্রতিবেদনে।
এরমধ্যে সরবরাহকারী কারখানার পক্ষ থেকে যে কোনো ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আকস্মিক কারখানা নিরীক্ষণ ও পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে ক্রেতাদের কার্যাদেশ বাতিল ও কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
ক্রেতাদের জন্য নৈতিকতা ও ব্যবসায়িক আচরণবিধি করারও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এছাড়া কারখানাগুলোর জন্য আলাদা সনাক্তকরণ নম্বর চালু, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পরিশোধে সরকারের তদারকি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং এক্ষেত্রে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে নীতি প্রয়োগে কঠোর হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম, নাজমুল হুদা মিনা ও নীনা শামসুন্নাহার।
এ সময় তারা বলেন, একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়া অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত।
সার্বিকভাবে তৈরি পোশাকখাতের অগ্রগতি হয়েছে অনন্ত ৬০ ভাগ আর এখাতে অগ্রগতি করতে সরকার ও কারখানা মালিকপক্ষকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান শাহজাদা এম আকরাম।