টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে রোববার আখেরি মোনাজাতে শান্তি-মঙ্গল কামনার মধ্যদিয়ে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শেষ হলো।
হেদায়তি বয়ান শেষে রোববার সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু করেন তাবলিগ জামাতের মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ।
ইজতেমার মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন বলেন, এ মোনাজাতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
আজও ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন ময়দানে উপস্থিত মুসল্লিরা। মুরুব্বীদের আমবয়ানে ঈমান, আমল ও আখলাকের কথা শোনেন দেশ-বিদেশ থেকে সমবেত লাখ লাখ মুসল্লি।
ঢাকা জেলার একাংশসহ ১৬ জেলার মুসল্লিরা এ পর্বে অংশ নেন।
শুক্রবার ফজর নামাজের পর ভারতের মাওলানা আবদুর রহমানের আমবয়ান দিয়ে ইজতেমার ২য় পর্ব শুরু হয়। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ থেকে শুরু হয়ে চলে ১০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে প্রথম পর্ব শেষ হয়। দ্বিতীয় পর্বেও রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম বলেন, রোববার ভোর থেকেই ইজতেমা ও এর আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে— রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আখেরি মোনাজাতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ ফোর্স (দুই শিফটের ফোর্স এক শিফটে) মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রায় ১২ হাজার র্যা ব ও পোশাকধারী পুলিশের পাশপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে কয়েক হাজার গোয়েন্দা সদস্য— আকাশ ও নৌপথে রয়েছে র্যা বের সতর্ক নজরদারি বলে জানান তিনি।
গাজীপুর পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আবদুল মোমিন বলেন, ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, লেবানন, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৯৬টি দেশের সাত হাজারের বেশি মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন।
মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস ব্যবস্থা।