জাতীয়

সংশ্লিষ্ট খবর:

  • মন্ত্রী থাকতে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ দুঃখজনক

শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবিগুলো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এখন তারা সাধারণ সভা করে আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সোমবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন শিক্ষক নেতারা।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও অর্থ সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেতন কাঠামোতে বৈষম্য ও মর্যাদা অবনমনের প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গণভবনে যান শিক্ষক নেতারা।

এদিকে, চলমান সঙ্কট নিরসনে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন শিক্ষকরা।

গতকাল বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এতে ৭ম বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৩ উন্নীত হওয়াসহ প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

কর্মবিরতির অষ্টম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন :

অষ্টম বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি দূরের দাবিতে টানা ৮ম দিন সোমবারের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা। বন্ধ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব ক্লাস।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরীক্ষাও হচ্ছে না— মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন রোববার নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছে।

মর্যাদা ও বেতন প্রশ্নে লাগাতার কর্মবিরতির আন্দোলনে এক সপ্তাহ পার করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

গত ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকদের উচ্চতর পর্যায়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে।

এদিকে, পদন্নোতি- পদমর্যাদাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতিতে সমর্থন জানিয়েছে সরকারি প্রকৌশলী, কৃষিবূদ, চিকিৎসক ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারাও। নতুন বেতন কাঠামোতে পদমর্যাদা, সিলেকশন গ্রেড বহাল ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চলমান এ কর্মবিরতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।

আন্দোলনের শুরু থেকে কথা :

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই, দাবি আজকে মেনে নেয়া হলে আজই ক্লাসে ফিরে যাবো।

কর্মবিরতি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাকসুদ কামাল বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক—এ যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আজই ক্লাসে ফিরে যাবো আমরা, আন্দোলন প্রত্যাহার করবো।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি।

তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটা সম্ভব হবে না।

তাহলে আমরা ধরে নেব আমাদের আন্দোলন যদি দির্ঘায়িত হয় কিংবা দাবি না মানা হয় তাহলে এর পেছনে অর্থমন্ত্রীর হাত আছে— শুধু অর্থের জন্য আমরা আন্দোলন করছি না, বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষক হিসেবে যে মর্যাদা দরকার সেই মর্যাদার জন্য আমরা আন্দোলন করছি বলে জানান তিনি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদা নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে আলোচনা এগোচ্ছে–জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা।

সচিবালয়ে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, যেভাবেই হোক, সংকট সমাধান সুষ্ঠুভাবেই হবে।

ওইদিন শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সংকট সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা ও আন্দোলন একইসঙ্গে চলবে।

ফিরে দেখা আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা :

বেতন বৈষম্য নিরসনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হওয়ায় একযোগে সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

এর আগে দাবি পূরণের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেধে দিয়েছিলেন শিক্ষকরা। তবে ওই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সাধারণ সভা করে শিক্ষকরা সোমবার থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় ‘কমপ্লিটলি শাটডাউন’ করার ঘোষণা দেন।

শিক্ষকদের দাবি আদায়ে ৩ জানুয়ারি শিক্ষকরা কালো ব্যাজ পরে ক্লাসে যান এবং ৭ জানুয়ারি বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে শিক্ষকদের বিরোধিতার মধ্যে সরকার গত ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে।

অষ্টম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর থেকেই গ্রেডে মর্যাদার অবনমন এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা।

এরপর সরকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এই দাবি পর্যালোচনায় কমিটি করে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন।

গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর বেতন কাঠামোর গেজেটে প্রথম দুটি দাবির প্রতিফলন ঘটেনি বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ