প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদের উত্থান রুখতে না পারলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের।
তারা জানান, একইসঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে— কমাতে হবে সুশীল ও রাজনৈতিক সমাজের দূরত্ব আর বাড়াতে হবে শিক্ষার মান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামিরেটস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যদিয়েই বর্তমান সরকারের নানামুখী অর্জন আশাবাদী হওয়ার মতো।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো গড়ে ওঠেনি— সেদিকে মনযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। শিক্ষায় অগ্রগতি আছে। সবার জন্য একই ধরনের শিক্ষা চালু করা যায়নি। দুর্নীতি দূর করার কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার দুমেয়াদে বর্তমান সরকারের টানা সাত বছরকে দিন বিদলের সাত বছর অভিহিত করে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সেমিনার করে আওয়ামী লীগ প্রচার সেল। মূল প্রবন্ধে শিক্ষাবিদ এ কে আজাদ চৌধুরী বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনায় যুদ্ধাপরাধ বিচারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা বলছেন বিশিষ্টজনরা। সরকারের উন্নয়ন কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন তারা।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, শিক্ষা প্রসারে ব্যাপকতা বাড়লেও একই ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যায়নি— অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে দুর্নীতি দূর করার কাজটিও।
রাজনৈতিক সহিংসতা সত্ত্বেও এ সাত বছরে সরকারের উন্নয়ন কাজ স্বীকার না করাটা দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, এইচ টি ইমাম।
সেমিনারে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচকে কেন্দ্র করে এবং তাঁর পরবর্তী বর্ষপূর্তিতে যে সহিসংতা হয়েছে; তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যেতে পারে। খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিচার করা এবং সাজা হওয়া উচিত। এসব সহিংসতায় জড়িতদের বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে হুকুমের আসামিদেরও। হুকুমের আসামির ব্যাপারে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ করার সময় হয়েছে। খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি পড়লে তিনি মন চাইলে হাজির হন, না চাইলে হন না। তাঁর ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।
গত ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরের সহিংসতা হালাকু খানের সহিংসতাকে হার মানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন বলেন, ‘দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে তাদের গুণগত যে সমৃদ্ধির দরকার ছিল, সেটা হয়নি। বাংলাদেশের এখনকার অর্থনৈতিক অবস্থা পরবর্তী ধাপে নিতে হলে গুণগত মান সম্পন্ন মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’
তাদের অভিযোগ, এখনও জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে বিএনপি জামাত জোট।
সেমিনারে আসা বক্তারা বলেন, সরকারের নানামুখী অর্জন থাকলেও তার প্রচার খুব একটা নেই।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম জানান, পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা পর্যায়ে এমন সেমিনার আয়োজন করা হবে।