অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা 'সংবিধান পরিপন্থি' প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনজীবীরা।
শুক্রবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তারা বলেন, রায় দেয়া আর রায় লেখা দু্টো ভিন্ন বিষয়—অবসরে গিয়ে রায় লেখা হলেও কোনো বিচারপতি রায় দেন নিজের পদে বহাল থাকা অবস্থায়। ফলে দায়িত্ব পালনের সময় ঘোষিত রায় অবসরে যাওয়ার পর লেখার ক্ষেত্রে আইনী কোনো বাধা দেখছেন না তারা।
আর প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যকে তার নিজস্ব মতামত বলে মন্তব্য সাবেক বিচারপতিদের।
তবে, একজন সাবেক বিচারপতি মনে করছেন এ ধরণের বক্তব্যের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অবসরে যাওয়ার পর বিচারকের রায় লেখা সংবিধান পরিপন্থি- প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এমন বাণী দেয়ার পরপরই আলোচনার ঝড় উঠে।
এর একদিন পরই মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশ্যভোজে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অবসরে যাওয়া বিচারপতিদের রায় লেখার বিষয় নিয়ে আবারো একই জের টানেন।
অবসরে যাওয়ার পর বিচারকের রায় লেখা নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে।
এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী বলেন, যখন বিচারপতি রায় ঘোষণা করেন তখন তিনি বিচারক হিসেবে শপথে ছিলেন। ঘোষিত তারিখের দিন হিসেবেই রায়ে সই করা হয়— এ চর্চা দীর্ঘদিনের।
উপমহাদেশের সব জায়গায় এ প্রথা চালু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুলের মতে, এই প্রথা সংবিধান পরিপন্থি নয়।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে আইনী কোনো জটিলতার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাণীটি বিচারিক কোনো ঘোষণার অংশ নয়—এটি একান্তই প্রধান বিচারপতির অভিমত মাত্র।
এদিকে, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য সরকারকে শুধু বিব্রত করছে না, রাজনৈতিক সংকটের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন শামসুদ্দীন চৌধুরী।
তবে, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকের রায় লেখা সংবিধান পরিপন্থি এ বাণী যদি কখনো বিচারিক ঘোষণা হয় তবে মাজদার হোসেন মামলাসহ কয়েক শত মামলা টিকবে না।