রাজধানীর সকল খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে না থাকলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। সেইসঙ্গে মূল ড্রেনের দায়িত্বও সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নে সমস্যা নিয়ে সোমবার দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের স্বত্বাধিকারী ও বার্তা প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যতোদিন পর্যন্ত রাজধানীর খাল ও মূল ড্রেনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের অধীনে না আসবে ততোদিন এ সমস্যা পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়।
রাজধানীর পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ পুলিশ নামে একটি স্বতন্ত্র বাহিনী গঠন করা উচিত— উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকার আওতায় ঠিকমতো বাতি জ্বালানো ও রাস্তা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করা হচ্ছে। রাস্তার ওপর যেন ময়লার কনটেইনার পড়ে না থাকে, সে জন্য ৭২টি স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৫ হাজার ডাস্টবিন তৈরি করার কাজ চলছে। যার মধ্যে দুই হাজার ডাস্টবিন আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তৈরি এবং ১০০ গণ শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১৪টি তৈরি হয়ে গেছে। সেই শৌচাগারগুলো পাঁচ তারকা হোটেল মানের মতো হচ্ছে।
এ বছরের এপ্রিলের মধ্যে রাজধানীর উত্তরের মূল সড়কের ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা, জুনের মধ্যে সিসি ক্যামেরা লাগানো, সবুজায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন উত্তরের মেয়র।
তিনি আরো বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার বাস নামানো হবে। বাস চলাচলে শৃংখলা আনা জন্য বর্তমানে থাকা ১৯০টি বাস কোম্পানিকে ৫টি কোম্পানিতে নামিয়ে আনার ব্যাপারে ডিএনসিসির সঙ্গে বাস মালিকদের মতৈক্য হয়েছে।
সেইসঙ্গে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ পুলিশ গঠন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় টেলিভিশন চ্যানেলের স্বত্বাধিকারী ও বার্তা প্রধানরা রাজধানীর যে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপে মেয়রের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।