শীতে প্রতিবছর রাজধানীতে গ্যাসের সংকট দেখা দিলেও এবার তা মারাত্মক আকার নিয়েছে। রাজধানীর কোথাও কোথাও বাসা-বাড়িতে ভোরে গ্যাস গেলে মধ্যরাতের আগে আসে না।
গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও অনেক সময় প্রয়োজন মত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকাবাসী। শীতের শুরু থেকেই সংকট শুরু হলেও গত কয়েক দিনে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।
রাজাধানীর মালিবাগ, বনশ্রী, শান্তিনগর, মিরপুর, মগবাজার, মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে বেশির ভাগ জায়গায় একই সমস্যা। কোথাও কোথাও ভোরে গ্যাস চলে গেলে তা আসছে মধ্যরাতের পরে। যা আসছে তাতেও পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তৈরি করার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
চাপ না থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও প্রয়োজন মতো গ্যাস পাচ্ছে না সিএনজি চালিত যানবাহনগুলো।
তিতাসের পরিচালক প্রকৌশলী এইচ এম আলী আশরাফ বলেন, সরবরাহ লাইনের পাইপে সমস্যা থাকার কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, দিনের অধিকাংশ সময়ই গ্যাস না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকার বাসিন্দারাও। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন গৃহিনীরা।
গ্যাস সংকটের কারণে এরই মধ্যে দুটি সার কারখানার মধ্যে একটির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শীতে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।
হালিশহর, চকবাজার, বাদুরতলা, বাকলিয়া, বহদ্দারহাটসহ চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এসব এলাকাসহ নগরীর বেশিরভাগ জায়গায় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ।
গ্যাস না থাকায় অনেকেই হোটেল থেকে কিনে এনে খাবার খাচ্ছেন। অনেকে আবার ইলেকট্রিক কিংবা স্টোভের চুলায় রান্না করছেন।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিএল) মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার মতাউর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চট্টগ্রামে সব সময়ই গ্যাসের চাপ কম।
গ্যাস না থাকায় চট্টগ্রামের দুটি সারকারখানার মধ্যে একটিতে কাজ হচ্ছে না। আর আরেকটিতে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ করায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।