অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা যাবে না— প্রধান বিচার বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সংবিধানে এ ধরনের কথা লেখা নেই, এটি অসংবিধানিক নয়।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত-৩০ আসনের সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সংবিধানে কোথাও লেখা নেই যে অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা যাবে না।
বিএনপিকে সংবিধান পুনরায় পড়ার পরামর্শ দেন আইনমন্ত্রী।
তবে ভবিষ্যতে যেন এমনটি না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও।
এ সময় আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন, অবসরের পর রায় ঘোষণা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সাংবিধানিক পদে থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি।
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি বলেন, অবসরের পর রায় ঘোষণা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়ে থাকে। এমনকি বিচার বিভাগ পৃথিকীকরণের পূর্ণাঙ্গ রায়টিও অবসরের পর লেখা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য বিতর্ক উস্কে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিব্রত করেছে।
সরকার দলীয় আরেক সাংসদ আব্দুল মতিন খসরুও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যের সমর্থন করে বলেন, অতীতের যেটি হয়ে গেছে সেটি নিয়ে প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্য খাটে না।
প্রসঙ্গত, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকের রায় লেখা সংবিধান পরিপন্থি- প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এমন বাণী দেয়ার পরপরই আলোচনার ঝড় উঠে।
এর একদিন পরই মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশ্যভোজে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অবসরে যাওয়া বিচারপতিদের রায় লেখার বিষয় নিয়ে আবারো একই জের টানেন।