বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ—বিশ্বের ১৬৮টি দেশের মধ্যে দেশের এ অবস্থান তুলে ধরেছে বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই)।
দুর্নীতির ধারণাসূচক (সিপিআই) ২০১৫-তে ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল।
"টিআই'র দুর্নীতির ধারনা সূচক ২০১৫" নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিতে একসময়ের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দুর্নীতি কমে ১৩তম স্থান অর্জনের কৃতিত্ব বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয় ফোরাম ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
দুর্নীতির বিশ্বজনিন ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে-- বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এর আগে ২০১৪ ও ১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম, ১৩-এ ১৬ এবং ১২-এ ১৩তম স্থানে।
বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির যে ধারণা সূচক বা সিপিআই-২০১৫ (করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স) প্রতিবেদন প্রকাশ বলে টিআইবির নির্বাহী জানান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত এ সূচক অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির দেশ সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া আর সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্কে।
বিশ্বের ১৬৮টি দেশে ২০১৫ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় তৈরি এ সূচকে ২৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম।
দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভারত। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির দেশ আফগানিস্তান। এরপরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
তবে বাংলাদেশে দুর্নীতির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি ২০১৪ সালের অবস্থানেই রয়েছে।
মাইডাস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।