আবারো দাবি উঠেছে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামাতে ইসলামি ও তাদের সহযোগী ছাত্র সংগঠন শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের। এছাড়া, ফাঁসির দণ্ড পাওয়া অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের তৃতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে আবারো এসব দাবির উঠে আসে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার শপথও নেয় তরুণ প্রজন্ম।
সময়টা ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল যুদ্ধাপরাধের মামলায় কসাই কাদের হিসেবে পরিচিত কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্র-যুব-জনতা।
তার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে তরুণ প্রজন্মের দুর্বার আন্দোলন। একাত্ম হয় সর্বস্তরের মানুষ। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রবাসেও।
দাবি ওঠে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল আইনের সংশোধন, কাদের মোল্লার ফাঁসি; আর রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কলঙ্ক মোচনের ইতিহাস।
এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৪ জনের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজার রায় হয়েছে আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের সেই গণজাগরণের তৃতীয় বর্ষপূর্তি শুক্রবার। বর্ষপূর্তি উদযাপনে গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র্যা লী ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের।
বক্তারা আবারো দাবি জানান, অবিলম্বে বাকি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর ও জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের।
বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনে র্যা লিটি কাওরান বাজার ঘুরে টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগেই শেষ হয়। এতে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক-কর্মীরা ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।