জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ত ব্যাংক বা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের সুযোগ নেই –সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-৫ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১৫ সালের সংশোধনীসহ) অনুসারে ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নামে একটি পৃথক কেন্দ্রীয় সংস্থা রয়েছে। আইন অনুযায়ী উক্ত ইউনিট রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাসমূহ থেকে নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) এবং সন্দেজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) সংগ্রহ করে বিশ্লেষণপূর্বক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে প্রেরণ করে। প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
এক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের সাথে জঙ্গি অর্থায়নের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে প্রেরণ করা হয়ে থাকে জানান মন্ত্রী।
আইনের ৬(২) নং ধারা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা এজেন্ট কর্তৃক চাকরিরত বা নিয়োগকৃত থাকা অবস্থায় কিংবা চাকরি বা নিয়োগজনিত চুক্তি অবসরের পর তৎকৃর্তক সংগৃহীত, প্রাপ্ত, আহরিত, জ্ঞাত কোনো তথ্য এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ আছে— এ পেক্ষাপটে, জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক বা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের সুযোগ নেই।
মাদারীপুর-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের ২০০২-২০০৬ সালে মোট ১৯ হাজার ৩৩৩.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স আহরিত হয়েছিল।
এদিকে, বর্তমান সরকারের প্রথম ৫ বছর এবং দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছরসহ মোট সাত বছরে মোট প্রবাসী রেমিটেন্সের পরিমাণ ৯২১৫৯.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানান তিনি।