মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এছাড়া দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শ্রমিকরা বৈধতা পাবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কর্মী পাঠাতে সরকারের সহযোগী হিসেবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একটি তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে—এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এজেন্সিগুলো কোনো রকম জালিয়াতি করলে অভিবাসন আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
চুক্তি অনুযায়ী, জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় আগামী তিন বছরে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। এজন্য মাথাপিছু খরচ হবে ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা যা বহন করবে নিয়োগদাতা কর্তৃপক্ষ।
টানা তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া যেতে নাম নিবন্ধন করেছিল সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ। বছরে এক লাখ কর্মী পাঠাতে দেশটির সঙ্গে কয়েক দফা চুক্তিবদ্ধ হয় সরকার। শুরুতে জি টু জি পরে, বেসরকারি তত্বাবধায়ন বি টু বি পদ্ধতিতে জোরালো উদ্যোগের পরেও চার বছরে মাত্র দশ হাজার কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছে।
সে উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় আগের সব চুক্তি বাতিল করে এবার জি টু জি প্লাস অর্থাৎ বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সম্পৃক্ত করে আবার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন এ মাসেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া।
সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্ম পরিবেশ, বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের চুক্তি থাকবে সরকারের সঙ্গে। সুনাম ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর পর, সে তালিকা থেকে বাছাই করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমতি দেবে মালয়েশিয়া সরকার।
এ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে অনলাইনে। সব মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। যার অর্ধেক বহন করবে নিয়োগ দাতা কর্তৃপক্ষ। আর বাকিটা কর্মীকেই বহন করতে হবে। বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা এ কাজে সহযোগিতা করবেন।
এদিকে, এবারের চুক্তিতে নতুন সংযোজন হলো- নারী কর্মীরাও যেতে পারবেন। আর মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকরাও বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন।