বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারই নারী নির্যাতনের মুখ্য কারণ—উল্লেখ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রধান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক’ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীদের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জাতিসত্তা, ভাষা সংস্কৃতিসহ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতেও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সুলতানা কামাল।
এ সময় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম নারী নির্যাতনের এ ভয়াবহ চিত্র দেখে এসব ঘটনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য পাবর্তী রায় বলেন, আইন থাকা সত্তেও নারীদের ক্ষেত্রে তার যথাযথ প্রয়োগ হয়না। তাদের মধ্যে বাল্যবিয়ে, শিক্ষার অভাব, মাতৃ মৃত্যুর ঘটনা হরহামেসাই ঘটে থাকে। ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে নারীরা সবচেয়ে নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ী এলাকা থেকে ক্যান্টনমেন্ট প্রত্যাহারেরও দাবি জানান নারী সদস্যরা।
গত আট বছরে প্রায় সাড়ে ৪শো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী ও শিশু নানা ধরনের নির্যাতনে শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০১৫ সালেই ২৬ জন ধর্ষণসহ ১০৩টি ঘটনা ঘটেছে। যার একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা সুষ্ঠু বিচার হয়নি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তৈরি করা বাংলাদেশের আদিবাসী নারী শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৫তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নারী নির্যাতনের এমন ভয়াবহ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সাংবিধানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি তুলেছেন তারা।