সরকারি ব্যবস্থাপনা (জিটুজি প্লাস) প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সমঝোতাস্মারক সই করেছে সরকার। জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় আগামী তিন বছরে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মালয়েশিয়ার মানসম্পদ মন্ত্রী দাতো সেরি রিচার্ড রিয়োট আনাক জিম এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, সর্ম্পূণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় এবার কর্মী পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে কোনও ধরনের প্রতারণা বা অস্বচ্ছতার সুযোগ থাকবে না। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই কর্মী পাঠানো শুরু হবে।
এ উদ্যোগের ফলে মালয়েশিয়ায় শ্রম বাজার প্রসারিত হবে ও দেশের বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলেও জানান বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, পুরো ব্যবস্থাপনায় সরকার থাকলেও এবার যুক্ত থাকবে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকরাও। সুনাম ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে পাঠানো হবে।
এ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগে কোনও ধরনের প্রতারণা বা অসচ্ছতার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানসম্পদ মন্ত্রী দাতো সেরি রিচার্ড রিয়োট আনাক জিম।
তিনি বলেন, সম্পূর্ন অন লাইন পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ হবে। এ পদ্ধতিতে একদিকে একচেটিয়া ব্যবসা করার যেমন কোনো সুযোগ থাকবে না। তেমনি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হবেন না। তবে এলাকাভিত্তিক ও কাজের ধরন বিবেচনায় একেক জন কর্মীর বেতন নির্ধারিত হবে। এ উদ্যোগের ফলে দুই দেশই লাভবান হবে।
সব প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রীই বলেন, এ চুক্তির মেয়াদ ৫ বছর হলেও দুই পক্ষের সম্মতিতে তা বাড়ানো যাবে।
জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে এ সমঝোতার আওতায় মালয়েশিয়ায় যেতে মাথাপিছু খরচ হবে ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা।
মালয়েশিয়ায় সেবা, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যানটেশন ও ম্যানুফেকচারিং খাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন কর্মীরা। সর্বনিম্ম বেতন হবে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সঙ্গে থাকবে ওভার টাইম। থাকা-খাওয়ার বিষয়েও চুক্তি থাকবে নিয়োগ কর্তার সঙ্গে।
তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্ম পরিবেশ, বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের চুক্তি থাকবে সরকারের সঙ্গে।