এখন থেকে বাসাবাড়ী ও দোকানপাটের আবর্জনা সন্ধ্যা ৭টার পরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা বাধ্যতামূলক করলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোনো আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে না।
আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরো দক্ষিণ ঢাকায় প্রায় ৬ হাজার ছোট আকারের ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। তবে নগরবাসীর সচেতনতা ছাড়া এসব পদক্ষেপের কোনটাই সফল হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিলোত্তমা নগরী ঢাকার অবস্থান এখন পৃথিবীর অবসবাসযোগ্য শহরের তালিকার শীর্ষে। যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নির্মাণ, বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাসহ বহু সমস্যার সাথে নগরবাসীর নিত্য বসবাস।
ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর হিসেবে ঘোষণাও করেছেন। বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু করেছেন পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
প্রধান প্রধান সড়কে এখনো ডাস্টবিন আর ময়লার এ ছড়াছড়ি, মেয়র ঘোষিত কার্যক্রমের সফলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে— দক্ষিণ ঢাকার ২৬ নং ওয়ার্ড সেক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হতেই পারে। এ ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রত্যেকটি সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। দোকানিরা তাদের দোকানের সামনে যেমন ময়লা ঝুড়িতে রেখেছেন, তেমনি পাড়া মহল্লাতেও সবাই নির্দিষ্ট স্থানেই ময়লা আবর্জনা ফেলছেন।
মেয়র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে এ ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর প্রায় সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিজ অফিস থেকেই তদারকি করছেন। সেইসঙ্গে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চালাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
সিটি করপোরেশন থেকে এরইমধ্যে বাসাবাড়ী ও দোকানপাটের আবর্জনা সন্ধ্যা ৭টার পরে সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আবর্জনা সংগ্রকারী ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে। নগরবাসীও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মেয়রের কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করছেন নগরবাসী।
এদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র আগের থেকে অনেক বদলেছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফল করতে দক্ষিণের ৫৭টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক ভাবে ১০০টি করে ছোট ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে।
তবে এসব উদ্যোগের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে নগরবাসীর ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তনের ওপর।