যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই শনিবার থেকে বাড়ছে রেলের ভাড়া—এরইমধ্যে নতুন ভাড়ার তালিকা রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে গড়ে ৭ .১৫% ভাড়া বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে শ্রেণি ভেদে ২০ থেকে ৯৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে— অন্যান্য রুটেও একই হারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাড়া বৃদ্ধির পরিকল্পনা অনুমোদন করেন আর গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে মন্ত্রণালয়।
গত ১২ জানুয়ারি রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি লোকসান কমাতে ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল— সর্বশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে ২০ বছর পর ভাড়া বাড়ানো হয়।
রেলসচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বলেন, ‘লোকসান কমাতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে— এখন থেকে প্রতি বছরই ভাড়া সমন্বয় করা হবে। জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লে কখনোই সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়বে না।’
প্রতি বছর ভাড়া বাড়াতে ‘ট্যারিফ রিফর্ম পলিসি’ করেছে রেল মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী এতে অনুমোদন দিয়েছেন। এখন থেকে প্রতি বছর আগের অর্থ বছরের তুলনায় যে পরিমাণ ব্যয় বাড়বে, সে অনুপাতে বাড়া বাড়াবে।
গত ২০১২ সালে ভাড়া প্রায় ৫০% বাড়লেও লাভের মুখ দেখেনি রেলওয়ে। আয়ের তুলনায় লোকসান কমলেও গত অর্থ বছরেও প্রায় হাজার কোটি টাকা লোকসান করে। দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
রেলের সূত্র জানিয়েছে, এডিবি শর্ত দিয়েছে স্থায়ী ভাড়া ট্যারিফ কাঠামো নির্ধারণ না করলে নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না। এতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছ।
২০১২ সালে ভাড়া বাড়ানোর আগে প্রতি কিলোমটিারে ভাড়া ছিল ২৪ পয়সা। তা বাড়িয়ে ৩৬ পয়সা করা হয়। শনিবার থেকে কার্যকর ভাড়া অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া হবে ৩৯ পয়সা। সর্বনিম্ন ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ৫ টাকা। নতুন ভাড়ার হার অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টাম রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ২৬৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮৫ টাকা। শোভন চেয়ার ৩২০ থেকে বেড়ে ৩৪৫, এসি চেয়ার ৬১০ থেকে বেড়ে ৬৫৬, এসি সিট ৭৩১ থেকে বেড়ে ৭৮৮ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৯৩ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ টাকা হয়েছে।
ঢাকা-খুলনা রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ৩৯০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২০ টাকা। শোভন চেয়ার ৪৬৫ থেকে বেড়ে ৫০৫, এসি চেয়ার ৮৯১ থেকে বেড়ে ৯৬১, এসি সিট ১ হাজার ৭০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৫৯৯ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৩১ টাক হয়েছে। অন্যান্য রুটেও একই হারে ভাড়া বেড়েছে।
পণ্য পরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। চট্টগ্রামে থেকে আগে ঢাকা পর্যন্ত পণ্যবাহী কনন্টেইনার ভেদে ভাড়া ছিল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত। শনিবার থেকে তা হবে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ: ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের চেয়ারম্যান শরীফ রফিক উজ্জামান ও মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এডিবির প্রেসক্রিপশনে ভাড়া বাড়িয়ে বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। রেলকে যাত্রীবিমুখ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।