বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার হোক সেটা চাই কিন্তু ভাষার বিকৃতি হোক, সেটা চাই না— এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
রোববার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলা ভাষাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন দেশের ভাষা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করা দরকার— এটা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপথে যাবে না।
অনেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে— মাদকাসক্ত হচ্ছে এ থেকে রক্ষা পেতে হলে সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে, বেশি করে খেলাধুলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘আসুন ভাষার ব্যবহার ও চর্চা বিস্তৃত করি—আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবেস ভাষার বিকৃতি রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, অঞ্চলভেদে বাংলা ভাষার যে তারতম্য দেখা যায় সেটা স্বাভাবিক— কিন্তু অনেকে ক্ষেত্রে ভিনদেশী উচ্চরণে বাংলা বলতে শোনা যায়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে একটা কালচার দেখা যাচ্ছে… বাংলাকে বিকৃত করে ইংরেজি একসেন্টে বলতে পারাটাকে মনে করে যেন গৌরবের বিষয়।
এ বিষয়ে মানুষকে আরো বেশি সচেতন করা উচিৎ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাষার বিকৃতিটা যেন না হয়।’
তিনি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে মানুষকে বিদেশি ভাষা শিখতেই হয়— কিন্তু তা যেন মাতৃভাষাকে অবহেলা করে না হয়।
ছোট ছোট বাচ্চাদের ইংরেজি মিডিয়ামে না পড়ালে যেন ইজ্জতই থাকে না— কয়টা ছেলেমেয়ে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছে? তেমন কিন্তু খুব বেশি দেখা যায় না।
মাতৃভাষার জন্য বাঙালির সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, বাংলা ভাষা আমাদের ভাষা— কাজেই এ ভাষাকে আরও উন্নত করার জন্য আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।
উল্লেখ, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ দেন সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।
এরপর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই আত্মত্যাগের দিনটি এখন আর বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
এরপর থেকে প্রতি বছরই দিনটি পালন করা হচ্ছে সারা বিশ্বে। বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।