পূবালী লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে অবস্থান করায় রাজধানী আকাশ ছেয়ে যায় ধূসর মেঘে আর কিছুক্ষণের মধ্যে নেমে আসে ধূলি ঝড় ও সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। অল্পে সময়েই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিলা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল ফাগুনের ধূলি।
তবে ফাগুনের এ সময় তা বেমানান সশব্দে শিল পড়তে লাগল, নামল ঝুম বৃষ্টি ভরা বসন্তে যেন নেমে এল ঘোর বর্ষা। ব্যস্তময় ঢাকার রাজপথে বেসামাল পথচারীরা একটুখানি ছাউনি খুঁজতে ছোটাছুটি শুরু হলো। কেউ কেউ তো ভিজে সারা আবার খানিক পরই মিলল রোদের দেখা।
বুধবার ভোরের দিকে ছিল শীতের আবেশ। ফাল্গুনেই রোদ আর মেঘের লুকোচুরি। বৃষ্টি যে হবে তার আলামত দেখা দিয়েছিল ভোররাতেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীতে হঠাৎ নেমে এলো কালবৈশাখীর মতো ঝড়ো বাতাস নিয়ে শিলাবৃষ্টি। বাতাসে ধুলার গন্ধ মুছে দিয়ে বৃষ্টি ঝরলো ধুলোবালির রাজধানীতে। হঠাৎ বৃষ্টি নগরের অনেককে ভিজিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূবালী লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে আজ বুধবারও রাজধানী এবং এর আশপাশের এলাকায় দিনভর বৃষ্টি হতে পারে। যা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য জায়গায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হাসান জানান, গত রাত থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এরমধ্যে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ফেনীতে ৩ মিলিমিটার, খুলনায় ২২ মিলিমিটার, পটুয়াখালী ১০ মিলিমিটার, বরিশালে ১৪ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১৯ মিলিমিটার, ভোলায় ১১ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ১ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৬ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ২ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৬ মিলিমিটার, সীতাকণ্ডে ৫ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ১ মিলিমিটার এবং মাইজদীকোর্টে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরিফ হাসান জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ১ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ৪৭ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৮ মিলিমিটার, সীতাকুন্ডে ৪২ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ৬১ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ১৭ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ১১ মিলিমিটার, মাইজদীকোর্টে ৬ মিলিমিটার, ফেনীতে ৩০ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১ মিলিমিটার, সিলেটে ১ মিলিমিটার, শ্রীমঙ্গলে ১৪ মিলিমিটার, খুলনায় ২৩ মিলিমিটার, মংলায় ১০ মিলিমিটার এবং সাতক্ষীরায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।