রাজধানীর উত্তরায় রান্না ঘরের গ্যাসের আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জনের মধ্যে একজন মারা গেছে। দগ্ধ বাবা-মা ও তিন সন্তানের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছে ১৪ বছর বয়সী পুত্র শাহলীন। অন্যদের মধ্যে এক সন্তান ছাড়া বাকী তিন জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
পরিবারের অভিযোগ বাড়ির মালিককে বললেও গ্যাস লাইনের লিকেজ ঠিক করে দেয়া হয়নি। আর বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারের দাবি কয়েকবার গ্যাস লাইনের লিকেজ ঠিক করে দেয়া হয়েছে। গ্যাসের চুলা ঠিকমতো বন্ধ না করায় এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার সকালে গ্যসের চুলার আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে দুই জনকে পোষ্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ও দুই জন হাই ডিপেন্ডেন্স ওয়ার্ডে রাখা হয়। বিকেলে মারা যায় ৮৮% দগ্ধ হওয়া ১৪ বছর বয়সী পুত্র শাহলীন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটের মেডিকেল অফিসার মুন্নি মমতাজ বলেন, ভর্তি অন্য তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গৃহকর্তা শাহনেওয়াজের শরীরের ৯৫%, স্ত্রী সুমাইয়ার ৯০% এবং ৩ ছেলের মধ্যে দেড় বছরের পুত্র জায়ানের ৭৪% দগ্ধ হয়েছে। প্রত্যেকের স্বাসনালী পুড়ে গেছে। তবে আরেক পুত্র ১১ বছর বয়সী জারিফের ৬% পুড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিলো। বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে মালিককে বলা হয়েছে। বাড়ির মালিক গ্যাস পাইপের লিকেজ ঠিক ভাবে না সারানোয় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্বজনদের।
তবে বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকার বলেন, কয়েকবার অভিযোগ ককরার পর গ্যাস লাইনের লিকেজ ঠিক করে দেয়া হয়েছিলো। রাতে গ্যাসের চুলা ঠিকমতো বন্ধ করা হয়নি, সে কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি কেয়ারটেকারের।
উত্তরার এই বাড়িটির ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটে শুক্রবার সকালে চা বানানোর জন্য গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে গেলে বিকট বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের মধ্যে আগুন লেগে যায় এবং আহত হয় একই পরিবারের পাঁচ জন।