মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজকরারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল— এখনও কিছু প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানার ব্যবসায়ীরা রাজাকারের ভূমিকা পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
ছয়টি পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করায় সহযোগিতার জন্য ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে সরকার।
আগামী ৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনের পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন—জানান পাটমন্ত্রী।
রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আজম জানান, আড়ৎ ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, বিভিন্ন সংগঠন, পাটের বস্তা উৎপাদনকারী সরকারি ও বেসরকারি মিল, এফসিসিআই, সর্বাধিক পাটের বস্তা ব্যবহারকারী সরকারি দপ্তর/সংস্থা, সর্বাধিক আইন প্রয়োগকারী জেলা, আইন প্রয়োগে শ্রেষ্ঠ সমন্বয়কারী বিভাগ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতাকারী সংস্থাসহ ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, পাটপণ্যকে জনপ্রিয় করতে ‘পাটজাত পণ্যের মেলা’ হবে, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ১৩৫ রকমের পাটপণ্য এ মেলায় প্রদর্শন করা হবে।
তিনি জানান, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে গত ৩০ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে ৯৯৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অভিযানে ২ হাজার ১০৩টি মামলা, ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে আগে কাঁচাপাট রপ্তানি হতো তারা তাদের বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথা সরকারকে জানালে সেসব দেশে কাঁচাপাট রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের চাহিদা আগে মেটানোর পরেই কাঁচাপাট রপ্তানি করা হবে।
৫ কেজি ও ১০ কেজি পরিমাণের পাটের ব্যাগ উৎপাদনের পর খুচরা পণ্যেও পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিতে পদেক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান মির্জা আজম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশের (বিজেএমসি) অধীনে থাকা ২৬টি পাটকলের মধ্যে ২৩টিতে এবং দুই শতাধিক বেসরকারি মিলে পাটজাত পণ্য উৎপন্ন হচ্ছে।
বর্তমানে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ৩ ডিসেম্বর পণ্যে পাটের মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিতে সব ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।
গত ৬ জানুয়ারি ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘বিশেষ প্রক্রিয়ায়’ দুই লাখ ৭৭ হাজার বেল কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হয়।