পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ ও পরিবহন, বিতরণ বা শোধনে আইন লঙ্ঘন হলে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে নতুন পেট্রোলিয়াম আইন করার প্রস্তাব সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।
রোববার ‘পেট্রোলিয়াম বিল-২০১৬’ সংসদে অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আইনের আওতায় বিধিমালার মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ ও পরিবহনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বিদ্যমান আইনে পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ ও পরিবহনে কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার সংবাদ না দিলে সর্বোচ্চ তিন মাস জেল বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন আইনে সাজা বাড়িয়ে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, একই অপরাধ আবার করলে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ হবে— পেট্রোলিয়াম উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ, রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। পেট্রোলিয়ামের কন্টেইনারে সতর্কবাণী লেখা থাকতে হবে।
পাস হওয়া আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ ও পরিবহনের বিষয়ে অনুসন্ধান ও জব্দ করারও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এ বিলের ওপর বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন ও রওশন আরা মান্নানের দেয়া কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করেছে সংসদ।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিলটি সংসদে তোলেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
গতবছরের জুলাই মাসে বিলটি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইনটি সামরিক শাসনামলে ১৯৮৬ সালে সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন করতেই এ বিল পাস করা হলো।