জাতীয়

শিশু নির্যাতনকারীদের বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স: চুমকি

মেহের আফরোজ চুমকি
মেহের আফরোজ চুমকি

শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর— অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে পপুলেশন কাউন্সিল আয়োজিত বাল্য বিবাহ বন্ধে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলাগুলো মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক মনিটর করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জাতি আজ নারী ও শিশুদের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কিন্তু আমরা সাধারণত শিশু বলতে শূন্য থেকে ৭/৮ বছরের বাচ্চাদের বুঝি এবং তাদের দিকে বেশি খেয়াল রাখি। তবে ৭ বছর থেকে ১৫ বছরের শিশুরা জীবনের একটি নুতন অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে শুরু করে এবং এ অভিজ্ঞতা তাদের কাছে খুবই নতুন।

এ সময় শিশুরা খুব ভুল করে— এ সময়টা শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাধারণত এই সময়টাকে গুরুত্ব দেই না। এই সময়টাকে ইংরেজিতে এডলেসেন্ট অধ্যায় বলে, বাংলায় বলে বয়সন্ধিকাল। এ কিশোরী মেয়েদেরকে যথাযথভাবে ট্রেনিং এবং ইনকাম জেনারেটিং কাজ দিতে পারলে বাল্য বিবাহ অনেক কমে আসবে বলে জানান তিনি।

গবেষণা অনুযায়ী উঠে এসেছে: তিনটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক উপায় যেমন শিক্ষায় সহযোগিতা প্রদান, জেন্ডার ভিত্তিক অধিকারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবনমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এবং মেয়েদের উন্নততর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফলাফল বেশ সফল হয়েছে বলে দেখানো হয়।

বালিকা প্রকল্পে ৭২টি কমিনিউটির ৯০০০ এরও বেশি মেয়ে অংশগ্রহণ করে। কমিনিউটিগুলোকে তিনটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে একটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যেখানে মেয়েরা গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পড়ার মাধ্যমে শিক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা লাভ করেছে, অথবা জেন্ডার বিষয়ক অধিকার ও আপস-আলোচনা, কোনো কিছু গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে পারা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতাবৃদ্ধির জীবনদক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ লাভ করেছে অথবা উদ্যোগতা হওয়া, মোবাইল ফোন মেরামত করা, ছবি তোলা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জীবনমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। বালিকা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করা সকল মেয়ে প্রশিক্ষক এবং সঙ্গীদের সাথে নিরাপদ, মেয়েবান্ধব জায়গা যা বালিকা সেন্টার নামে পরিচিত সেখানে প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়েছে যা মেয়েদেরকে নতুন বন্ধু বানাতে, নতুন প্রযুক্তি সসম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে, বই ধার করতে এবং কিশোরী থেকে যুবতী হয়ে উঠতে যে দক্ষতাগুলো থাকা প্রয়োজন তা অর্জন করতে সাহায্য করেছে।

মেয়েরা তাদের কমিউনিটির মধ্যে এ দক্ষতাগুলো চর্চা করেছে যা তাদেরকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে তাদের অর্জনগুলো প্রকাশ করতে এবং তাদের পরিচিতি উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

ফলাফলে দেখা গেছে যে, যে সকল স্থানে বালিকা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সে সকল স্থানে বাল্যবিবাহের হার শতকরা ৭৫ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে যে সকল স্থানে বালিকা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি তার তুলনায়। প্রতিটি ইন্টারভেনশন প্রমাণ করে যে, বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পপুলেশন কাউন্সিলের কান্ট্রি ডাইরেক্টর ড. ওবায়দুর রব, নেদারল্যান্ড অ্যাম্বেসির ডেপুটি হেড অব মিশন মিজ মার্টিন ভন হগস্ট্রাটেন, পপুলেশন সার্ভিস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ। সমীক্ষা উপস্থাপন করেন পপুলেশন কাউন্সিলের প্রিন্সিপাল ইনভেসটিগেটর ড. সাজেদা আমিন প্রমুখ।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ