গণমাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে মাত্রা অতিক্রম না করার আহবান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বুধবার দুপুরে সিলেট আদালতের ডিজিটালাইজেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অতি স্বাধীনতার কারণে সাধারণ মানুষের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান প্রধান বিচারপতি।
এ সময় বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। এবং মামলার জট কমাতে কোর্টে কাজের সময়সীমা বাড়ানোর প্রতি জোড় দেন তিনি।
সেক্ষেত্রে, আইনজীবীদের ছুটি কমিয়ে আনার প্রস্তাব রাখেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
এর আগে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ‘ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপোজিশন সিস্টেম’ বার হলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে সঙ্গে নিয়ে এর উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রাচীন বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও যুগপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য আদালতেও এ পদ্ধতি চালু হবে।
নতুন এ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এবারে বাংলাদেশে প্রথম সিলেটের ৪০টির মধ্যে ২০টি আদালত কক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরায় আধুনিক এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হলো।
এদিকে, নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রিতা কমে আসবে। সেইসঙ্গে বিচারকার্যক্রমেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এতোদিন সাক্ষীর সাক্ষ্য হাতে লিপিবদ্ধ করতে হতো। এমনকি সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবিরা সাক্ষীকে যে জেরা করতেন তাও হাতে লিখতে হতো।
তবে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে সাক্ষীর সাক্ষ্য কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। কম্পিউটারে ভুল লিপিবদ্ধ করা হলে সাক্ষী বা তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা সংশোধনের সুযোগও থাকছে।