প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দু'জন মন্ত্রীর বক্তব্যকে তাদের ব্যক্তিগত মত বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
রাজধানীতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এতোটুকু বলতে পারি যার যার ব্যাক্তিগত মতামত প্রদান করার স্বাধীনতা দেশে রয়েছে। তারা হয়তোবা তাদের ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন।’
মন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধান অনুসারে সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ –এ জন্য সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকালে আইনগত সহায়তার জন্য এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৬৪টি জেলায় এর কার্যক্রম চলছে। পদ সৃষ্টি করা হয়েছে ১৯২টি।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, নতুন যে ইউপি চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হবেন তাদেরকে নিয়ে প্রত্যেক জেলায় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার বিষয়ে বৈঠক করে বিষয়টির ওপর ধারণা দেয়া হবে কারণ একজন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানলে সাধারণ জনগণের কাছে খুব তাড়াতাড়ি তথ্য পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলা করা হয় অপরপক্ষকে হয়রানি করার জন্য— জেলের ভয়ে রাখার জন্য এটা থেকে বের হতে চাই যদি এ রকম চলতে থাকে তাহলে মামলা সংখ্যা ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে তা রোধ করতে হবে।
আনিসুল হক বলেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে শাস্তি পেতে হবে বর্তমান সময়ে করা সব আইনে এমন বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে— এটাকে আরও কার্যকর করতে চাই, তাহলে শুধুই হয়রানির জন্য মামলা দায়ের রোধ হবে।
‘সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অংশীদারিত্ব: সাফল্য, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতা শীর্ষক”-রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা-বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত শীর্ষক বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিকাশ কুমার সাহার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা ও বইয়ের লেখক মুন্সীগঞ্জ জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন।