প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের নয়—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রীদের এ ধরনের বক্তব্যে তিনি বিব্রত হয়েছেন, তার সরকারও বিব্রত।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিতে চান, তাহলে রাস্তায় গিয়ে দেন। মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলেই যা খুশি বলবেন এবং যেকানো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলছেন, এটা ঠিক নয়।
তিনি আরো বলেন, একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে দুজন মন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, এতে মনে হয় যেন ওই সংগঠনটি সরকারের কোনো সংগঠন এবং ওই বক্তব্য যেন সরকারের বক্তব্য।
গত শনিবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিলের পুনঃশুনানি করার দাবি জানান। এ মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি।
অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে, জেল-জরিমানা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান রেখে ‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ভাড়া নির্ধারণের জন্য সাত সদস্যের কমিটি থাকবে। তাঁরা যাচাই বাছাই করে ভাড়া নির্ধারণ করবেন।
এছাড়াও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কারিগরী সহায়তা পেতে ভারতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।