মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৫ বিশিষ্টজন ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৬ প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
সকল ঝড়-ঝঞ্ঝা অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ— উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা জাতির জন্য অবদান রাখলেন তাদের আমরা স্বীকৃতি দিতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের অবদান থেকে অনুপ্রাণিত হয়, উদ্বুদ্ধ হয়।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক সেটাই আমরা চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো।
এ সময় পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, তাদের এ প্রাপ্তি নতুন প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহিত করবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশকে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
এর আগে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্টজন ও তাদের স্বজনদের প্রত্যেকের হাতে স্বর্ণপদক, তিন লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, মাতৃভাষাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর সাত ক্যাটাগরিতে ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
স্বাধীনতা পদক ২০১৬ পাওয়া মনোনিত ব্যক্তিরা হচ্ছেন: ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কাজ করার সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বপক্ষ ত্যাগ করার জন্য ও মুক্তিযুদ্ধকালে বিদেশে জনমত তৈরির জন্য সংগঠক হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এম ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, সফল রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী হিসেবে মরহুম মৌলভী আসমত আলী খান, দেশের স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালনকারী এফ-৬ সুপার সনিক বিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম (বীরোত্তম)।
অন্যান্য পদকপ্রাপ্তরা হচ্ছেন : ১৯৭১ সালে রাজশাহী পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হামলার প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনী গঠনকারী রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার শহীদ শাহ আবদুল মজিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দানকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণকারী রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এম আবদুল আলী, ১৯৭১ সালে হাতে বাংলাদেশের সংবিধান লেখক ও লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বপক্ষ ত্যাগকারী মরহুম একেএম আবদুর রউফ, ১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বপক্ষ ত্যাগকারী ও দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন প্রতিষ্ঠাকারী কেএম শিহাব উদ্দিন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকা- সংগঠনে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী সৈয়দ হাসান ইমাম।
ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে পদকপ্রাপ্ত হচ্ছেন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির (২১ ফেব্রুয়ারি) স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার জন্য মরহুম রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তোষা ও স্থানীয় জাতের পাটের জেনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কারের জন্য কৃষি গবেষক মরহুম অধ্যাপক মাকসুদুল আলম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাফি খান (এমআর খান)।
কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কাজের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক লাভ করেন।
এছাড়াও সরকার মুক্তিযুদ্ধকালে অসামান্য অবদান এবং দেশের সমুদ্রসীমার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় নিরলস প্রয়াস চালানোর জন্য বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীকে স্বাধীনতা পদক ২০১৬ প্রদান করা হয়।