আবারও বাড়তে পারে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম—এমন ইঙ্গিত দিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নসরুল হামিদ বলেন, ভূর্তুকি কমিয়ে আনতে সরকার দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমানোও হতে পারে।
দেশে সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে— উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ফলে নতুন প্রায় আড়াই হাজার শিল্প কারখানায় নতুন সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মূল্যও সমন্বয় করা হবে।
আর ফার্নেস অয়েলের পাশাপাশি পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানী তেলের দামও যৌক্তিক করা হবে বলেও জানান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
নসরুল হামিদ আরো বলেন, গত দেড় বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক দফা ফার্নেস অয়েলের দাম কমে, লিটার প্রতি ৩০ টাকারও নিচে নেমেছে। তবে দেশে বিক্রি হচ্ছে সরকারের নির্ধারিত দাম ৬০ টাকায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেশি পড়ায় এই খাতে সরকারকে প্রতি বছর ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা ভূর্তুকি দিতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার দরের সংগে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলেও বিদ্যুতের দাম কমছে না।
প্রসঙ্গত, দেশে সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয় ২০১৩ সালে। তখন দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ৬৮ এবং ফার্নেস তেল ৬০ টাকা করা হয়। আর ২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে।