রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে কোনো নির্দেশনা যায়নি। নির্দেশনা গিয়েছে চোরের কাছ থেকে— সে নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করে ফেডারেল রিজার্ভ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি পরামর্শক আজমালুল হোসেন কিউসি।
তিনি বলেন, লেনদেনের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ কোনো প্রটোকল মেনে চলেনি। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ভুল নেই। অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফেডারেল রিজার্ভের কাছে কোনো নির্দেশনা যায়নি।
লেনদনের জন্য যে প্রকোটল মেনে চলার কথা, ফেডারেল রিজার্ভ তাও মানেনি বলে জানান এ আইনজীবী।
আজমালুল হোসেন কিউসি আরো বলেন, এ ব্যাপারে কোনো বিলম্ব না করেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিকল করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বাংলাদেশের কারও জড়িত থাকার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে ফিলিপাইনের তৎপরতায় সন্তুষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে চুরি যাওয়া বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া সহজ হবে— এ ব্যপারে এরইমধ্যে সন্দেহভাজদের একটি তালিকাও ফিলিপাইনকে দেয়া হয়েছে বলেও আশা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা তদন্তে ফিলিপাইনকে সব রকম সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া প্রায় দেড় হাজার ল্যাপটপ জমা দেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সিআইডি এসব ল্যাপটপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
আর আধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। শিগগিরই সিআইডির প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে যাচ্ছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে দেশে-বিদেশে। ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে ফিলিপাইন। এটাকে নিজেদের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।