দফায় দফায় সময় দিয়েও ঢাকার ট্যানারিগুলোকে সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে পাঠাতে না পেরে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা। হাজারীবাগের চামড়া প্রবেশের চারটি প্রবেশপথে শুক্রবার সকাল থেকে ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
ট্যানিরী ম্যালিক, আড়ৎদার ও ব্যাপারীরা বলছেন, ট্যানারী স্থানান্তরে আরো সময় না দিলে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিসহ দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চল্লিশের দশকে নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম ট্যানারি শিল্প গড়ে ওঠে। ৫০ দশকে এই শিল্পকে হাজারীবাগ সরিয়ে নেওয়া হয়। এই শিল্প বাণিজ্যক সাফল্য পেলেও ১৯৮৬ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি দূষণকারী শিল্পখাত হিসাবে হাজারীবাগ ট্যানারী কারখানাগুলোকে লাল ক্যাটাগরিভুক্ত করে।
এরপর দূষণ বন্ধে ২০০১ সালে উচ্চ আদালতের নিদের্শনা আসে। সাভারে চামড়া শিল্পনগরী করে সেখানে ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। শিল্পনগরী প্রকল্পের অনুমোদন হলেও এর কাজ শেষ করতে একযুগ লেগে যায়। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার-সিইটিপি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দফায় দফায় পেছানো হয় ডেডলাইন।
চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ট্যানারিগুলোকে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেধে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ ডেড লাইনও মানেননি ট্যানারী মালিকরা। শেষ পর্যন্ত হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা।
চামড়া আড়ৎদার ও ব্যাপারীরা বলছেন, চামড়া প্রবেশে বাধা দিয়ে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিসহ দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।