ট্যানারি মালিকদের সদিচ্ছার অভাব এবং গাফিলতির কারণে বারবার সময়সীমা বেধে দিয়েও ট্যানারি স্থানান্তর করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মুকসুদ।
শুক্রবার সকালে সাভারে চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের বেধে দেয়া সবশেষ ডেডলাইন ১০ এপ্রিলের মধ্যেও সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর হচ্ছে না— এখন পর্যন্ত সেখানে একটি ট্যানারিরও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
এদিকে, ট্যানারি স্থানান্তরিত না হওয়ায় বর্জ্যশোধানাগার-সিইটিপিও চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম।
অনেকটা ঢিমেতালে এগুচ্ছে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ট্যানারি নির্মাণ কাজ। সরকারের বেধে দেয়া সর্বশেষ ডেডলাইন অনুযায়ী ট্যানারি স্থানান্তরের বাকি আছে আর মাত্র দুই দিন। কিন্তু কাজের যে অগ্রগতি, তাতে চতুর্থ দফা ডেডলাইনেও হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর সম্ভব নয়।
প্রকল্পের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৫৪ টি ট্যানারির মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানও এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। ১৩টি প্রতিষ্ঠান ২ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই করেছে আর ১ তলা পর্যন্ত উঠিয়েছে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ৩৭টি প্রতিষ্ঠান মাত্র পাইলিংয়ের কাজ শেষ করেছে আর ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ সবে কাজ শুরু করেছে বা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ অবস্থায় শুক্রবার সাভারের ট্যানারি শিল্প পরিদর্শন করেছেন বাপার ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আগামী কোরবানী ঈদে কোনো পশুর চামড়া যেন হাজারীবাগে বুড়িগঙ্গার পারে না যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাজের যে অগ্রগতি তাতে ১০ এপ্রিলের মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর অসম্ভব মনে করছেন প্রকল্প পরিচালকও। তবে ৩১ টি প্রতিষ্ঠান দ্রততম সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আসতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।
সিইটিপি চালু করতে কমপক্ষে ৫০টি বর্জ্য দরকার হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সেক্ষেত্রে,পরিপূর্ণ প্রস্তুত থাকা স্বত্বেও, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার কবে চালু করা যাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।