ইলিশ তুমি কার? বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যের অংশ নাকি শহুরে হুজুগে-সংস্কৃতির বাণিজ্যিক অনুষঙ্গ? বর্ষবরণের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের হালের যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ইতিহাসে এর সপক্ষে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত মেলে না। অতি মুনাফালোভী প্রবণতা বাংলা নববর্ষের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের আত্মীয়তার সম্পর্ক পাতিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।
পান্তা-ইলিশ বর্ষবরণকে মহিমান্বিত করে না বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি পরিহাস বলে মনে করেন অনেকে। আর পান্তা-ইলিশের এই নয়া আত্মীয়তার খাতিরে যেভাবে জাটকা নিধন চলছে তাতে দেশের মূল্যবান ইলিশসম্পদ আরও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়বে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের।
পহেলা বৈশাখ যতই ঘনিয়ে আসছে ইলিশ নিয়ে ততই বাড়ছে কাড়াকাড়ি। পান্তা-ইলিশে বর্ষবরণের নয়া সংস্কৃতির কারণে বাজারে দুর্মূল্য হয়ে উঠেছে ইলিশ।
বাংলা বর্ষবরণের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের কী আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে? এর সপক্ষে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না মেলে না যুক্তিতেও। আবার 'নুন আনতে পান্তা ফুরায়' প্রবচণটির প্রচলন যে দেশে সেখানে পান্তার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্কে অযৌক্তিক। কারণ পান্তার সঙ্গে সম্পর্ক অভাবী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। তাই অনেকে পান্তা-ইলিশকে দেখছেন প্রান্তিক মানুষের প্রতি ব্যঙ্গ হিসেবে।
তাই বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশের যে কোনো ঐতিহ্যগত আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই সে বিষয়ে নিশ্চিত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে ব্যবসায়ীরা পান্তা-ইলিশকে বর্ষবরণের সংস্কৃতির অনুষঙ্গ করে তুলেছেন। যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।
বর্ষবরণের এই নয়া-ফ্যাশনে, ক্ষতি হচ্ছে দেশের ইলিশ সম্পদের।
গবেষকরা বলছেন এবার পহেলা বৈশাখে প্রায় ৬০ হাজার টন ইলিশের চাহিদা তৈরি হয়েছে। যার কিছু অংশ পূরণ করা হবে গত মৌসুমে হিমাগারে রাখা ইলিশ দিয়ে আর সিংহভাগ পূরণ হবে জাটকা নিধন করে।
মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস সাধারণত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না; মেলে জাটকা। এই জাটকাকে বড় ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিতে দু'মাস ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু শহুরে নব্য-বৈশাখী রেওয়াজে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রতিযোগিতা জাটকা নিধন উৎসাহিত করছে বলে মনে করেন তারা।