ওলামা লীগ নামে কোনো সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী নয়—বলে সাফ জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। আর ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদকের দাবি করা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেন, ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ওলামা লীগ।
মঙ্গলবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত স্বাক্ষাতকারে তারা এসব কথা বলেন।
হানিফ বলেন, ভুঁইফোড় এসব সংগঠন নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শবিরোধী কথা বলছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন দাবি করে খোদ আওয়ামী লীগেরই নীতি-আদর্শ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী ওলামা লীগ।
এর মধ্যে আবার কে আসলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সেই দাবি নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষ-মারামারির পর সংগঠনটি দ্বিখণ্ডিতও হয়ে গেছে।
একটির দায়িত্বে আখতার হোসাইন বুখারী আরেকটি ইলিয়াস হুসাইন বিন হেলালীর নিয়ন্ত্রণে। একপক্ষ আওয়ামী লীগের সহযোগী দাবি করলে অপরপক্ষ তাদের জঙ্গি-জামাত-হেফাজতের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত করে।
তবে এ বুখারী-হেলালীর নেতৃত্বে কারা এ ওলামা লীগে তা উঠে এসেছিল খোদ আওয়ামী লীগ দলীয় বাগেরহাটের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেনের বক্তব্যে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে একজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তারা তদন্তও করছেন।
এছাড়াও ওলামা লীগ নেতাদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে প্রেসক্লাবের সামনে দুই গ্রুপ যুক্ত হয়েছিল মারমুখী সংঘর্ষে।
গত শনিবার বাংলা নববর্ষ উদযাপন নিয়ে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয় ওলামা লীগ। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বর্ষবরণের সব উৎসব-অনুসঙ্গকে তারা অনৈসলামিক বলে দাবি তুলে। রাজধানীর বিজয়নগর কাজী অফিসে দেখা মেলে তাদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক দাবি করা এক নেতার। তার দাবি, ওলামা লীগ আওয়ামী লীগেরই
জামাতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে আওয়ামী লীগে— উল্লেখ করে বিশিষ্টজনরা বলেন, আসলে পরিচয় গোপন রেখে এরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
তবে আওয়ামী লীগ বলছে, এসব সংগঠন ভুঁইফোড়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে এর মধ্যেই জানানো হয়েছে।
এসব সংগঠনকে আওয়ামী লীগ অস্বীকার করলেও তাদের অনেক অনুষ্ঠানে দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায়ই অংশ নিতে দেখা যায়।