প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চক্রান্তে এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির এক নেতার ছেলের কারাদণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ যে মামলা করে ছিলো—সেই মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ৪ মার্চ কারাদণ্ড দেয় নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত।
ওই বছরের ৯ মার্চ ফেইসবুকে এক পোস্টে জয় লিখেছিলেন, ওই ষড়যন্ত্রে জড়িতরা বিএনপির যতো উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বই হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য পেতে এফবিআইয়ের এক এক এজেন্টকে ঘুষ দেওয়ায় ২০১৫ সালে সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাসাস নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে।
পাশাপাশি ঘুষ লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জোহানেস থালেরকেও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেয় নিউইয়র্কের আদালত।
তথ্য পেতে ২০১১ সালে সিজার ও থালের এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট লাস্টিককে ঘুষ দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার ডলার ও পরে মাসিক ভিত্তিতে ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে জয় সম্পর্কে সব তথ্য দিতে রাজি হন লাস্টিক।
এ ঘটনায় ২০১৫ সালের আগস্টে পল্টন থানায় একটি ডায়েরি করেন ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান। পরে এটি মামলায় রূপান্তরিত হয়। ওই মামলায়ই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিএনপিঘনিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে। ২০১৩ সালে বিদেশে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে শফিক রেহমানের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।
জয়কে অপহরণ চক্রান্তের ঘটনায় জাসাস নেতার ছেলে সিজারের শাস্তির পর ২০১৫ সালের ৮ মার্চ সংসদ অধিবেশনে এর নিন্দা জানান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। সেইসঙ্গে তারা দাবি করেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ওই চক্রান্তে জড়িত।