ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী চলে যাবার পর জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণসহ দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ- রোববার। একাত্তরের এ দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানের শপথ নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। বাংলাদেশের জন্য বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়, জনমত গঠন, শরণার্থীদের দেখভাল এবং হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করে এ সরকার। যে পথ ধরে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়।
আসে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন, বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় ততক্ষণে দেশকে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর কবলমুক্ত করতে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জাতি। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে শামিল আপামর বীর জনতা।
সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা গণপরিষদ গঠন করেন ১০ এপ্রিল। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে তারা বৈধ ভিত্তি দেন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশকে। এরপরই বাংলাদেশ সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নেওয়া হয় মুক্তাঞ্চল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলাকে। সিদ্ধান্ত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে ১৭ এপ্রিল সেখানেই হবে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ জানান ও্ই সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের একান্ত সহকারী ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম।
দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক শেখ মুজিবের নামে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ হলো মুজিবনগর। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের নেতৃত্বে এলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমেদ।
মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠান মনোবল বাড়িয়ে দেয় রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের। গতি পায় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে যুদ্ধে স্বাধীনতার পূর্ণতা আসে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় গৌরবে।
এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় মেহেরপুরের মুজিবনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মেহেরপুরের মুজিবনগরের আম্রকাননে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর দিবসের সূচনা হয়। এসময় বিউগল বাজানো হয়। পরে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, দেয়া হয় গার্ড অব অনার। এছাড়া আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে নাটোরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এক মিনিটের নিরবতা পালন শেষে করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
পেছনের কিছু কথা:
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নেতাদের গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন ১২ জন আনসার সদস্য। এদের মধ্যে বেঁচে আছেন ৪ জন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, মুজিবনগরের ভবরপাড়ার ইপিআর ক্যাম্পের সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে কুষ্টিয়া চলে যায়। ওইসময় ক্যাম্পের দায়িত্ব পান ১২ জন আনসার সদস্য। ১৬ এপ্রিল সকালে সে সময়ের কুষ্টিয়া মহকুমার এসডিও তৌফিক এলাহী তাদের ডেকে কয়েকজন অতিথি আসবেন বলে জানান। তাই গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থানে তৈরি করা হয় মঞ্চ। ওই রাতেই ভারতীয় ফোর্স এসে সেখানে অবস্থান নেয়।
১৭ এপ্রিল সকালে ভারতীয় সীমানা পেরিয়ে আসেন জাতীয় চার নেতা সঙ্গে আসেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক। সেখানে জাতীয় চার নেতা শপথ নেন। তাদের গার্ড অব অনার দেন ১২ জন আনসার সদস্য।
দেশ টিভিকে এসব কথা জানান ওইদিন গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার মো. লিয়াকত আলী।
পরে এসডিওর পরামর্শে এই ১২ জন আনসার সদস্য অস্ত্র নিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তিসেনাদের ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মেহেরপুরে ফিরে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে জানান গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার আজিমদ্দিন শেখ,
মুজিবনগর দিবস ঘিরে রচিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস। তাই দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকা আনসার সদস্য হামিদুল হক।
সেদিন, গার্ড অব অনার প্রদানকারী ১২ জনের মধ্যে ৮ জনের প্রতিকৃতি রয়েছে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে। বাকিদের প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের।