মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিসহ সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে বিদেশিরা যতোই সন্দেহ প্রকাশ করুক— বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যথাযথভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশকে পরামর্শ না দিয়ে বরং দেশটি থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে। কেননা সাধারণ জনগণকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আত্মশক্তিতে বলিয়ান দেশের দৃষ্টান্ত খুব কম দেশের মতো বাংলাদেশেরই রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনেক বিদেশির সন্দেহ এখনও গেল না। আমি আবারো বলতে চাই, আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবেই। ২০২১ সালের মধ্যে ৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যসীমা শূণ্যের কোটায় আসবেই।’
কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রাই প্রমাণ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী বলেও জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী।
তবে এ নিয়ে সন্তুষ্ট না থেকে সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পদ্মাসেতু অবশ্যই প্রয়োজন তবে উন্নয়ন প্রশ্নে তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন মাধ্যমিক শিক্ষা জোরদার করা, যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আমাদের শক্ত। আমাদের কমপক্ষে এক হাজারটি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান মানসম্মত হতে হবে। বারবার প্রশ্ন ওঠে, জনগণ প্রস্তুত কি-না? আমি বলব, জনগণ প্রস্তুত বরং নীতিনির্ধারকরা প্রস্তুত কি-না?
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএএস মুরশিদ বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশের যে অর্জন, এটা মোটেও অগ্রগতি না বরং বাংলাদেশের যাত্রা কেবল শুরু হলো। আগামী দিনগুলোতে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য খুঁজতে হবে আমাদের। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা খুব গর্ব করি কারণ আসলে তা মিথ্যা প্রমাণ হচ্ছে দিনদিন। এ শক্তিকেই ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এদিকে, না বলা অনেক কথা প্রকাশের সন্ধানে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত সংলাপ-আলোচনা চলবে ২ দিনব্যাপী।