বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক শাসনামলের যে অসম্মানজনক প্রক্রিয়া ছিল তা দূর হতে চলেছে বলে
মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বিচারপতিদের অসদাচরণের তদন্ত ও তাদের অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক আইন ২০১৬ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে করে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সাংসদরা ফিরে পেতে যাচ্ছেন।
সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদনের পর এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। জানান, কোনো বিচারপতিদের আচরণে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি তথ্য-প্রমাণাদিসহ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে অভিযোগ করবেন।
স্পিকার সত্যতা নিরূপণে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করবেন। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দিবে। অভিযোগ মিথ্যা হলে সেখানেই বিষয়টির ইতি টানবেন স্পিকার। সত্য হলে বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে আলোচনার উদ্যোগ নিবেন স্পিকার।
সংসদ সদস্যরা চাইলে সংখ্যাগরিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এই কমিটিতে থাকবেন একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, অনুর্ধ্ব ৬৭ বছর বয়সের একজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং একজন সম্ভ্রান্ত বা আইনজ্ঞ ব্যক্তি।
এসব চলাকালীন অভিযুক্ত বিচারপতিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। কেউ অসুস্থ হলে মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সার্বিক প্রক্রিয়া ওভাবেই পরিচালিত হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে সংসদ সদস্যরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সিদ্ধান্ত নিবেন। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা নিবেন।
অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তি হবে কমপক্ষে ২ বছরের জেল বা কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা জরিমানা।
বিচারপতিদের অপসারণে সাংসদদের ক্ষমতার বিরুদ্ধে রিটের রায় ঘোষণা হবে আগামী ৫ মে।
এ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রিট খারিজ হলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক আইনের আর প্রয়োজন পড়বে না।
বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল সংসদে পাস হয়।
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও অপসারণের ক্ষমতা সাংসদদের হাতে ছিল। সামরিক সরকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।