কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ক্ষতিপূরণের হার বৃদ্ধি, শ্রম আইন সংশোধন এবং স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়েনের দাবি জানিয়ে রাজপথে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন 'মে' দিবসের কর্মসূচি পালন করছে।
রোববার সকালে মহান 'মে' দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে এ দাবির কথা জানান বিভিন্ন পেশাজীবীর শ্রমিকরা।
এছাড়া রানা প্লাজা ও তাজরীনসহ সারাদেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান।
এ সময় তিনি শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ক্ষতিপূরণের হার বৃদ্ধির দাবি জানান।
স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন করা না গেলে শ্রমিকদের অধিকার আদায় সম্ভব নয়--এ কথা উল্লেখ করে ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ান প্রতিষ্ঠা, বেতন বৈষম্য দূরীকরণসহ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের জোর দাবিও জানান।
এদিকে, নারী শ্রমিকদের ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবি জানান নারী প্রগতি সংঘের সভানেত্রী রোকেয়া কবির।
এছাড়া রাজধানীতে আরেক অনুষ্ঠানে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোসহ রানা প্লাজাসহ সারাদেশে যেসকল গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণেরও দাবি করেন।
সকাল থেকেই 'মে 'দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ।
এদিকে, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান 'মে' দিবস।
সকালে দিবসটি উপলক্ষে খুলনায় শ্রম অধিদপ্তরের উদ্যোগে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নিউমার্কেট এলাকা থেকে বের করা হয় র্যালি। পরে শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশালের শহীদ সোহেল চত্বরে সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সিটি কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় শ্রমিক সমাবেশ।
র্যালি, সভা-সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, নাটোর, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, কুমিল্লা ও বগুড়াসহ সারাদেশে।