রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটে রোববার রাতে লাগা আগুন প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ জানান, আগুন নির্বাপণে ২৬টি ইউনিট কাজ করে। রাত সোয়া ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্কেটটি কাঠ এবং টিন দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।
টিনশেডের দোতলা হাসিনা মার্কেটের পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর অধিকাংশই ছিল মসলার আড়ত। এর বড় অংশে ছিল আদা, রসুন, পিঁয়াজ, মরিচের আড়ত। হলুদ-মরিচ গুঁড়া করার কিছু মিলও ছিল। পাশাপাশি লেপ তোষকের দোকান এবং খাবার দোকানও ছিল সেখানে।
ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এখানে ১৮৬টি দোকান স্থায়ী বরাদ্দ ছিল আরো কিছু অস্থায়ী বরাদ্দ ছিল, সব পুড়ে গেছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এ বাজারটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার কাজে হাত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেয়র আনিসুল হক।
তিনি বলেন, ৮ মাস আগে দোকান মালিকদের সঙ্গে নেগোশিয়েট করেছি—আশা করছি যাত্রাবাড়ী ও আমিনবাজারের মতো কারওয়ান বাজারকেও সুন্দর মার্কেটে রূপ দিতে পারব।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক আরো বলেন, হাসিনা মার্কেটের আগুন একটি দুর্ঘটনামাত্র ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে—এ ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য যা করা দরকার, সরকার তা করার চেষ্টা করবে।
পাইকারি মার্কেটের এক দোকান কর্মচারী জসিম বলেন, উত্তর-পূর্ব কোণে প্রথম আগুন লাগে। এরপর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।
রাত পৌনে ৮টায় আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পরপরই তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা তানহারুল ইসলাম বলেন, তিনটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেছে। এরপর অন্য ফায়ার স্টেশনগুলো থেকে অনেকগুলো গাড়ি আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তার সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয়রাও।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ২৫টি ইউনিট কাজ করেছে। এখানে আলো ও পানির সমস্যা ছিল। সবাইকে নিয়ে আগুন নেভানো হয়।