গত ৭ বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিক মারা গেছেন। আর আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের অধিকাংশ কারখানায় কর্মপরিবেশ, কাজের নিরাপত্তা, ভবনে ত্রুটি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করাই এই দুর্ঘটনার কারন বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। সংস্থাটির এক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করে তৈরি শিল্প খাতকে আরও আধুনিক শিল্পে পরিনত করতে সরকারের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করে একটি জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট।
দেশে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৪০ লাখ। কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ন ভবনে অধিকাংশ শিল্প কারখানা থাকায় গত সাত বছরে নানা রকম দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭২৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এরইমধ্যে তাজরিন ও রানা প্লাজা ধ্বসে নিহত হয়েছেন সবচেয়ে বেশী শ্রমিক।
এছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে এবং দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করতে ও এব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স’ কাজ করছে। তবে এতো উদ্যোগের পরেও দেশের ২৫% কারখানা ভবন এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
এ সকল কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়নের পরামর্শ আলোচকদের।
তবে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক শিল্পকে নিরাপদ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যার সুবিধা এরই মধ্যে শ্রমিকরা পেতে শুরু করেছে।