বিচার বিভাগ আগের তুলনায় যথেষ্ট সমৃদ্ধ তাই সংসদের হাতে বিচারক অপরাসণ ক্ষমতা দিয়ে ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম।
আর ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে এর মধ্য দিয়ে বিচারকদের কাজের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
তবে ২ জন বিচারক যে রায় দিয়েছেন তা পুনর্বিবেচনার জন্য উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষার আহ্বান সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের
উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানে ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ষোড়শ সংশোধনীকে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করায় এ নিয়ে সংসদসহ নানা মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই রিটের নিষ্পত্তিতে নিয়োজিত অ্যামিকাস কিউরি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিষ্টার আমির-উল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের অবস্থা ও বিচারপতিদের অপসারণ পদ্ধতি বিবেচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে বিচারপতিদের অপসারনের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকার যৌক্তিকতা এখন আর নেই।
৭২ এর সংবিধানে কেন এ বিধান ছিল তার যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে হাইকোর্টের এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন এ রায়ের ফলে বিচার বিভাগে কাজের গতিশীলতা আরো বাড়বে।
তবে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অপেক্ষার আহ্বান নানান।
সংবাধানের ষোড়শ সংশোধনীতে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোড় তদন্তে সংবিধানে যে আইনের কথা উল্লেখ রয়েছে সে আইন প্রণয়নের পরামর্শ দেন তিনি।
গত ২৫ এপ্রিল বিচারপতিদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও তা প্রমাণের প্রক্রিয়া ঠিক করে তৈরি এসংক্রান্ত আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।