মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংগঠন বা দল হিসেবে জামাতকে শাস্তি দেয়ার বিষয়ে আইন সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিসভায় ওঠার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে প্রায় দেড় বছর। অথচ ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন বা দলের সাজার বিষয়টি দীর্ঘদিনের গণদাবি।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই সরকার সময় নিচ্ছে।
তবে এরসঙ্গে পুরোমাত্রায় দ্বিমত পোষণ করে অন্যরা বলছেন, কালক্ষেপন করা মানেই দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির ভিত আরও মজবুত হওয়ার সুযোগ দেয়া। আইন স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার নামে আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির বিচারের পাশাপাশি সংগঠন বা দলের বিচারের দাবি সেই শুরু থেকেই।
সবশেষ বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদন খারিজ করে মানবতাবিরোধী অপরাধী নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখার সময়ও দল বা সংগঠনের বিচারের দাবি ওঠে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের নিবন্ধন ২০১৩ সাল থেকে অবৈধ হলেও নাশকতা ও সন্ত্রাস চালিয়েই যাচ্ছে জামাত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন গোষ্ঠী। বিভিন্ন সময় লেখক-ব্লগার, শিক্ষক, বিদেশি নাগরিক হত্যা, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলেও সরকারের দাবি, জামাত-শিবিরই এদের শেকড়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ রেখে ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল আইনের তৃতীয় সংশোধনী হয়, যেখানে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন শব্দটি যুক্ত করা হয়।
তবে দোষী সাব্যস্ত সংগঠনের শাস্তি, তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা পদ্ধতি, অথবা সংগঠনের সদস্যদের দায়-দায়িত্ব ও সম্পদের ব্যাপারে সেখানে উল্লেখ ছিল না।
সেই তাগিদ থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে দল বা সংগঠনকে দণ্ডের বিধান বিবেচনায় রেখে, ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ সংক্রান্ত আইনের খসড়াও চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উঠবে, এ কথা দেড় বছর ধরে আইনমন্ত্রী বলে আসছেন, যেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। তবে অনেকেই বলছেন, বিদ্যমান আইনেই সংগঠন বা দলের বিচার সম্ভব।
এমন অবস্থায় বিশ্লেষকদের অভিযোগ, কালক্ষেপন করাটা সরকারের রাজনৈতিক হিসেব-নিকেষের কৌশল। তাদের মতে, সময় নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে দেরী করলে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতেই থাকবে।
তবে ব্যক্তির পাশাপাশি দলকে শাস্তি দেয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে, ধৈর্য ধারণের পরামর্শ কারো কারোর।