বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের জঙ্গি হামলায় প্রগতিশীল ব্যক্তিদের হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বেশ টানাপড়েনে রয়েছে।
যেভাবেই হোক এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সংযোগ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশ মনে করে এসব দেশীয় জঙ্গিদেরই কাজ—এ নিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপও।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির, ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, যে যাকে দুষছে তাকে সেভাবেই প্রমাণ দিতে হবে।
কেননা দোষারোপ ও রাজনীতিকরণের ফাঁকে দুর্বৃত্তরা তাদের অপকর্ম সেরে নেয়ার যে সুযোগ নিচ্ছে তা যেভাবেই হোক প্রতিহত করতে হবে- মনে করছেন তারা।
গত ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত যে কয়জন ব্লগার-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে প্রত্যেকটির ধরণ প্রায় একই।
অনেকগুলোরই দায় স্বীকার করেছে আইএস, আল কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এসব হত্যাকাণ্ডকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দেশটি সহায়তাও করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি আমলে নিচ্ছে ইউএসএআইডি কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান হত্যাকাণ্ডটি যেটি তারা "একান্ত" হিসেবে অভিহিত করছে।
গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, জুলহাজ তাদের সহকর্মী ছিলেন উল্লেখ করে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী কেরিকে জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
সবশেষ দু'দিনের ঢাকা সফরে মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাইও, বাংলাদেশে আইএস ঘাঁটি গাড়তে চায় উল্লেখ করে যৌথভাবে সংকট মোকাবেলার আহ্বান জানান।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডগুলো দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীরা ঘটাচ্ছে এবং এসবের মদদ দিচ্ছে বিএনপি-জামাত।
এ বাস্তবতা বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক নতুন কোনো মোড় নিবে কিনা এ নিয়ে বিশ্লেষকদের রয়েছে ভিন্ন মত।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবির ও ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা যাকে দায়ী করছে, তাকে সেভাবেই তার প্রমাণ দিতে হবে।
আর এসব হত্যাকাণ্ডকে রাজনীতিকরণ না করে পুরো বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলার দৃষ্টিতে দেখে সে অনুযায়ী সমাধান সমীচীন বলে মনে করেন তারা।