মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকায় এক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। আপত্তিকর এ বিবৃতি দেয়ার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে, নিজামীর পক্ষে বিবৃতি দেয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও তীব্র সমালোচনা আর নিন্দার মুখে পড়েছেন সোশাল মিডিয়ায়।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গোড়া থেকেই প্রশ্ন তুলে আসা পাকিস্তান এবারো একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখালো।
জামাত ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ট্রাইব্যুনালে বহাল রাখায় শনিবার প্রতিক্রিয়া জানায় ইসলামাবাদ। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে চলমান বিচারকে ‘বিতর্কিত’ অখ্যায়িত বলে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।
আপত্তিকর এ বিবৃতি প্রকাশের পরই বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে উপস্থিত হলে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মিজানুর রহমান কড়া ভাষায় পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
পাকিস্তান সরকারের এমন মন্তব্য অগ্রহনযোগ্য বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয় হাইকমিশনারকে।
এ পরিস্থিতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমান নিজামীকে ‘জাগতিক পাপশূণ্য’ বলে বিবৃতি দেয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রতিও ধিক্কার জানিয়েছে বাংলাদেশ।
নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সমালোচনা করে সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, নিজামীর বয়স কমপক্ষে ৭০ বছর। তার জাগতিক কোনো পাপ ছিল না বলে তুরস্ক মনে করে।
আরো বলা হয়, বাংলাদেশে এভাবেই ঘৃণার মাত্রা আরো ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে সঠিক সরকার ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পন্থার দাবিতে বারবার পদক্ষেপ নিয়েও এই ধরনের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি রোধ করা যাচ্ছে না।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এরদোগানের সমালোচনা শুরু হয়েছে।