শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ‘রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটির’ কাজ শুরুর পর— ঢাকা থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে অস্ট্রেলিয়া।
সোমবার বিমান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ৫ মে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে অস্ট্রেলিয়া সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাই।
এর ফলে ঢাকা থেকে এখন যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় কার্গো চলাচল করতে পারবে বলে জানান মেনন।
গত ২৪ মার্চ রেডলাইন কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ে রেডলাইন কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুসারে একটি আলাদা নিরাপত্তা জোন তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিনটি এয়ারলাইন্সকে ওই জোনের মাধ্যমে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নির্বাচন করা হয়; যারা বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহন করতে পারবে।
এ তিন এয়ারলাইন্স হচ্ছে- বাংলাদেশ বিমান, ইতিহাদ এবং লুফথানসা বলে জানান তিনি।
গত ৮ মার্চ ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্য। এর আগে অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে।
বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়ে এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয় সরকার। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শ নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়।
একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই দেশটির কোম্পানি রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটি লিমিটেডকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়নে নিয়োগ দেয় সরকার।