অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোতে বেতন পে-ফিক্সেশন ও পেনশন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করতে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়— এতে বলা হয়েছে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করতে হবে। নয়তো জুলাই মাসের বেতন তাদের স্থগিত হয়ে যাবে।
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে একটি সফটওয়ার চালু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যার মাধ্যমে চাকরির তথ্য দিয়ে নিজেদের বেতন-ভাতা বের করতে পারবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) নামের এই সফটওয়ার উদ্বোধন করেন।
আইবাস প্লাস প্লাস হচ্ছে একটি কেন্দ্রীভূত সমন্বিত বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির সফটওয়ার। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অবসর ভাতা (পেনশন) নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যে কেউ অনলাইনে www.payfixation.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, কর্মরত পদ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, কতগুলো টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন তার তথ্য এবং সর্বশেষ স্কেলের তথ্য দিলেই নতুন স্কেলে তার বেতন কত দাঁড়াচ্ছে তা চলে আসবে। একইভাবে মিলবে অবসর ভাতার তথ্য। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয়ে যাবে এর মাধ্যমে।
অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর তার বেতন কত নির্ধারিত হয়েছে তা এসএমএসের মাধ্যমে সাথে সাথেই জানানো হবে। একইসঙ্গে তিনি একটি ট্রাকিং নম্বর এবং চাকরির অবস্থানপত্র (বেতন নির্ধারণের সময় পর্যন্ত) পাবেন। এই অবস্থানপত্রের দুটো কপি প্রিন্ট দিয়ে স্বাক্ষর করে যার যার সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে।
তবে পেনশনারদের নিজেদের অনলাইনে তথ্য দিতে হবে না। পেনশনভোগী ব্যক্তি যে ব্যাংক বা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে পেনশন তোলেন সেখানে এনআইডির ফটোকপি ও পিপিও বইয়ের ফটোকপি জমা দিলে তারাই এসব তথ্য অনলাইনে দিবে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) নামের এই সফটওয়ার উদ্বোধন করেন।
ওই সময়ই বলেছিলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পদক্ষেপ। আজকে যে পরিবর্তনটা হলো এক হিসেবে বলা যায়, এটা ২৬৮ বছরের পরিবর্তন। ১৯০ বছর ছিল ব্রিটিশ শাসন, ২৩ বছর ছিল পাকিস্তানের শাসন আর ৪৫ বছর আমাদের। ২৬৮ বছর পেরিয়ে বড় একটা পরিবর্তন হলো।
যে কেউ অনলাইনে www.payfixation.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে ফরম পূরণ করে তার বেতন ও পেনশন নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে সময় বাঁচবে ও সরকারি-কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানি কমবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।