যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদেরএ কথা বলেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আল বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর বিচার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় ফের তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, ইসলামাবাদের নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আল বদর নেতা নিজামীর ফাঁসির রায় কর্যকর করা হয়।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা নিজামীকে।
এর পরেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে এবং নিজামীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় দেশটি।
নিজামী শোকে ফের পাকিস্তানের বিবৃতি:
ফাঁসি কার্যকর হওয়া পর বুধবার (১১ মে) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “১৯৭১ সালের কথিত অপরাধের দায়ে বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামির আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কর্যকর করায় পাকিস্তান গভীরভাবে শোকাহত। পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের প্রতি সমর্থনই ছিলো তার একমাত্র অপরাধ”।
বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ বিচারের মাধ্যমে নেতাদের হত্যা করে বিরোধীদলকে দমন করা হচ্ছে অভিযোগ এনে দীর্ঘদিন সামরিক শাসনাধীন থাকা পাকিস্তান বলছে- এটা সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রের চেতনা বিরোধী।
বিবৃতিতে পাকিস্তান আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশের যেসব মানুষ সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজামীকে নির্বাচিত করেছিলো, এ মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যও দুর্ভাগ্যজনক।