নারায়ণগঞ্জে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার-প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শিক্ষককে কান-ধরে ওঠ-বস করানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।
কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না- উল্লেখ করে আইন নিজের তুলে নেয়া কখনই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুয়ায়ী এ ঘটনায় অভিযুক্তরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন বলেও জানান আনিসুল হক।
এ সময় তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আদালতে হতে পারে।
শুক্রবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নিয়মিত সভায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতকে ক্লাসে মারধর করার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়। এরমধ্যেই স্কুলের সামনের একটি মসজিদে ঘোষণা করা হয় প্রধান শিক্ষক ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে। এলাকাবাসীকে স্কুলমাঠে জড়ো হওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়। পরে এলাকাবাসী স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করে এবং অবরুদ্ধ করে।
একপর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ডাকা হয়। পরে তার উপস্থিতিতে শিক্ষককে সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। সেখান থেকে প্রধান শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় দেখা করেছে নারায়ণগঞ্জের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার শাহবাগে সমাবেশের ডাক দিয়েছে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক নেতারা।