আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রামে জামাত-শিবির ঘেঁষা বিএনপি নেতা হিসেবেই পরিচিত—ছাত্রজীবনে শিবির নেতাদের সঙ্গেই ছিল তার সখ্য। এছাড়াও জোট সরকারের আমলে রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনঃচালুর নামে সেসব কিনে নিতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন হাজার কোটি টাকা। এখনো রয়েছে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ। ওই সময় তারেক রহমান আসলাম চৌধুরীকে আদমজী জুট মিল ভাঙ্গার কাজও দিয়েছিলেন।
বর্তমান সময়ে আলোচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেশ সখ্য ছিল। এ কারণে বিএনপির রাজনীতি করলেও তাকে জামাত শিবির পন্থি বিএনপি নেতা বলে থাকেন অনেকে।
২০০২ সালে সীতাকুন্ড জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপিতে হাতেখড়ি আসলাম চৌধুরীর। ২০০৫ সালে বিএনপির স্থানীয় বিএনপিতে যোগ দেয়ার মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত হন আসলাম চৌধুরী। ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হওয়ার পর মাত্র দুই বছরের মাথায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান তিনি।
আর ২০১৪ সালে প্রভাবশালী নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দিয়ে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান আসলাম চৌধুরী। তার দুই বছরের মাথায় হন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব।
পেশাগত জীবনে আসলাম চৌধুরী প্রথমে ফেনী কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন। শিক্ষকতা ছেড়ে ১৯৯৬ সালে তিনি এফসিএ পাস করার পর কনফিডেন্স ও রয়েল সিমেন্ট কোম্পানীতে বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। এরমধ্যেই তিনি শুরু করেন ব্যবসা। রাইজিং গ্রুপ নামে তার রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জোট সরকারের আমলে দেশের রুগ্ন শিল্পকারখানা চালু করার নামে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা কেনেন আসলাম চৌধুরী। এজন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেন হাজার কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই অপরিশোধিত।
ওই সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসলাম চৌধুরীকে দেশের বৃহত্তম আদমজী জুট মিল ভাঙ্গার কাজও দিয়েছিলেন। বর্তমানে আসলাম চৌধুরীর শিপব্রেকিং ব্যবসা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, লবন কারখানা, কয়েকটি মৎস্য সংরক্ষণ কারখানা রয়েছে। রিসোর্ট ছাড়াও কক্সবাজারে রয়েছে অনেক জমি।
আসলাম চৌধুরীকে একজন ব্যবসায়ী দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সরকারের নাটক বলছেন সতীর্থ নেতারা।
বিএনপি-জামাতের আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যে তান্ডব চলে তার নেপথ্যে আসলাম চৌধুরী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নাশকতার ১৭ টি মামলা হয়। মামলাগুলোতে জেলও খাটেন তিনি।
বিএনপির তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন টাকার জোরেই স্বল্প সময়ে আসলাম চৌধুরী বড় নেতা বনে গেছেন।