মানসিক চাপ নিয়ে দিন কাটছে নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার শারিরীক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অধিকাংশ সময় সংবাদপত্র পড়েই সময় কাটান নারায়নগঞ্জে লাঞ্ছনার শিকার সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। স্ত্রী সবিতা রানী আর চিকিৎসকের বাইরে কারও সঙ্গেই তেমন কথা বলেন না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।
স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নারায়নগঞ্জের হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।
ক্যামেরার পেছনে আবারও বলেন, কোনও অপরাধ করেন নি। তাকে লাঞ্ছনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এদিকে, নিয়মিত চেক-আপের পাশাপাশি তার নিরাপত্তায় রয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারিরীক অবস্থা এখন অনেকটাই ভাল, তবে প্রচন্ড মানসিক চাপে রয়েছেন।
সম্প্রতি ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ তুলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে নারায়নগঞ্জে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে জনসমক্ষে লাঞ্ছনা করা হয়।
এদিকে, নারায়গঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভদ্রকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে ক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার ও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবীদ, রাজনীতিকরা।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে মাবনবন্ধন থেকে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোরেও।
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শনিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ মানববন্ধন করে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষক, রাজনীতিক, নাগরিক প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। এঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তারা।
শিক্ষক লাঞ্ছনার এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে সাংসদ সেলিম ওসমানের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানান তারা।
শ্যামল কান্তি ভক্তকে হেনস্থা করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা, জামাত হেফাজত নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবি পেশ করা হয় এসময়।
একই দাবিতে সকালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। মাদক বিরোধী জোটের উদ্যোগে এই সমাবেশে অভিযুক্ত সাংসদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
যশোরেও মানববন্ধন করেন বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।