উপমহাদেশের নারী জাগরণের বিশেষ করে সাংবাদিকতায় নারীদের পদচারণা ও ভূমিকায় অন্যতম ভ্যানগার্ড নূরজাহান বেগম। বেগম পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করেছেন ধ্যান-জ্ঞান। দেখেছেন ও দেখিয়েছেন সমস্ত কুসংস্কার ও কূপমণ্ডুকতার বেঁড়াজাল ছিন্ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
মনে-প্রাণে চাইতেন জীবনের পথচলায় পুরুষের পাশাপাশি নারী চলুক স্বমর্যাদায়-স্বগৌরবে।
সাহিত্য ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে পত্রিকাটি ছিল নারীদের ছবি সংবলিত প্রথম পত্রিকা।
পরে ১৯৫০ সালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশ হতে থাকে। বর্তমানে অর্থনৈতিক কারণে ‘বেগম’ পত্রিকা অনিয়মিত। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাক ছিলেন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক ও নূরজাহান বেগমের বাবা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। শৈশবেই বাবার কাছে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি নূরজাহান বেগমের।
১৯২৫ সালের ৪ জুন চাঁদপুর জেলার চালিতাতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বর্ষীয়ান এ নারী সাংবাদিক। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, কলকাতার লেডি ব্রেবর্ন কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে আইএ ও ১৯৪৬ সালে বিএ পাস করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন নূরজাহান।
সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রোকেয়া পদক, বাংলা একাডেমি বিশেষ ফেলোশিপসহ বহু সম্মাননা ও সংবর্ধনায় ভূষিত হন তিনি।
৯০ এর দশকে বাবা, মা ও স্বামী সাংবাদিক-সংগঠক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের মৃত্যুর পর অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছিলেন নূরজাহান বেগম।